‘লাঙ্গল-জোয়াল থেকে ডিজিটাল বাংলাদেশ’
বঙ্গবন্ধুর দূরদর্শীতায় লাঙ্গল-জোয়ালের দেশ থেকে বাংলাদেশ আজ ডিজিটাল বাংলাদেশ হয়েছে বলে মত প্রকাশ করেছেন ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার। বলেছেন, সমকালীন বিশ্বে প্রযুক্তিতে ৩২৪ বছর পিছিয়ে থাকা বঙ্গবন্ধু কর্তৃক ১৯৭৩ সালে আইটিইউতে বাংলাদেশকে অন্তর্ভুক্তি এবং ১৯৭৫ সালের ১৪ জুন বেতবুনিয়ায় স্থাপনের যুগান্তকারি পদক্ষেপই শেখ হাসিনার দূরদৃষ্টিসম্পন্ন নেতৃত্বে আজকের বাংলাদেশকে ডিজিটাল বাংলাদেশে রূপান্তর করেছে। পৃথিবীতে জিডিপি-তে প্রবৃদ্ধি অর্জনকারী প্রথম স্থানের মর্যাদায় অধিষ্ঠিত করেছে।
মঙ্গলবার (৩ সেপ্টেম্বর) ঢাকায় জাতীয় প্রেসক্লাব মিলনায়তনে বাংলাদেশ প্রগতিশীল কলামিস্ট ফোরাম এর উদ্যোগে আয়োজিত ‘প্রগতিশীল রাজনৈতিক নেতৃত্বে শেখ হাসিনা’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।
বাংলাদেশ প্রগতিশীল কলামিস্ট ফোরাম আহ্বায়ক ড. মীজানুর রহমান এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে নিরপত্তা বিশ্লেষক মেজর জেনারেল (অব) এ কে মোহাম্মদ আলী শিকদার, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সামাদ, সাবেক সচিব মো: নাসির উদ্দিন আহমেদ প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।
অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ প্রগতিশীল কলামিস্ট ফোরামের সদস্য সচিব মিল্টন বিশ্বাস।
মোস্তাফা জব্বার বলেন, ‘যে বিশ্বব্যাংক পদ্মা সেতুতে টাকা দেয়নি, সেই বিশ্বব্যাংক আইসা বলছে, তোমাদের টাকা-পয়সা দেই দু-একটা প্রজেক্ট কর না কেন? আমি ওরে বলে দিয়েছি, তোমার টাকার আর দরকার হবে না, থ্যাংক ইউ ভেরি মাচ। একটা পাটের নৌকা উপহার দিয়া বিদায় করে দিয়েছি। এটিই বাংলাদেশ, আমরা সেই জায়গায় পৌঁছেছি।’
ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী বলেন, ‘সেপ্টেম্বর মাসের ২৮ তারিখ ইচ্ছা করলেও প্রধানমন্ত্রীকে সরাসরি গিয়ে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানাতে পারি না। তাকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানাই। তিনি শুধু আমার প্রধানমন্ত্রী সহকর্মী নন এখন। খুব গর্বের সঙ্গে বলি আমরা দুজন একসঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা বিভাগে পড়াশোনা করেছি।’
‘আমরা স্মৃতিতে যখনই তাকে নিয়ে আলোচনা করার প্রশ্ন আসে, তখনই একটু সেদিকে চলে যাই। আমি স্মরণ করি ১৯৭০ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা ভবনের দোতলায় বাংলা বিভাগে এক ভদ্র নারী একদম ফড়িংয়ের মতো উড়ে বেড়াতেন। তার একটি সাদামাটা আটপৌরে তাঁতের শাড়ি থাকত। মুখের মধ্যে কোনো দিন স্নো, পাউডার, লিপস্টিক দিয়েছেন- এটি আমার স্মৃতিতে পড়ে না। আমাদের এই সময়কালে যারা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র-ছাত্রী ছিলেন; তারা কেউ গ্রাম থেকে এসেছেন, মধ্যবিত্ত পরিবার থেকে এসেছেন, নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবার থেকে এসেছেন। তাদের সঙ্গে যে সময়টা তিনি কাটিয়ে এসেছেন, তাদের কারো পক্ষে বলা কঠিন ছিল, তিনি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কন্যা।’
মন্ত্রী বলেন, ‘শেখ হাসিনা যে জীবন-যাপন করতেন সেখানে তিনি অতি সাধারণ ছাত্রলীগের কর্মী হিসেবে মিছিল মিটিং থেকে শুরু করে ছাত্রলীগের সব কর্মকাণ্ডে উপস্থিত থাকতেন। একজন সদ্য বিবাহিত নারী তার ছাত্রজীবন ও সংসার জীবন একসঙ্গে কেমন করে যে সমন্বয় করে চলছেন, সেটি স্মৃতিচারণ করতে গেলে আমার কাছে বিস্ময়কর মনে হয়।’